শুভেন্দুর হুঙ্কারের কয়েক ঘণ্টাতেই বাগনান কাণ্ডে বড় অ্যাকশন, হত্যাকাণ্ডে আরও ১ শ্রীঘরে
বাগনান: ‘খুনের কড়া শাস্তি হবেই! দরকারে অভিযুক্তদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ খোদ মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল বড় সাফল্য। বাগনানে বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে খুনের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে জালে তুলল পুলিশ ও সিআইডি। হাওড়া জেলা পুলিশ এবং রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শেখ সৈফুদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে। পুলিশ সূত্রে খবর, মূল এফআইআরের ৪৩ নম্বর নাম ছিল এই সৈফুদ্দিনের। এই নিয়ে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে মোট ১১ জন শ্রীঘরে গেল। তবে এখনও অধরা মূল মাথা সহ ৪০ জন অভিযুক্ত, যাদের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।শনিবার বিকেলে বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রীতিমতো গর্জে ওঠেন তিনি। স্পষ্ট জানান, প্রশান্ত খুনের ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্ত চলছে। ৫১ জনের নামে এফআইআর হয়েছিল, যার মধ্যে ১০ জন আগেই ধরা পড়েছিল। এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে কার্যত ডেডলাইন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দরকারে পাতাল থেকে তুলে এনে বাকিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এটা তাঁর দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেনি পুলিশ ও সিআইডি। যৌথ অভিযানে নেমে রাতেই পাকড়াও করা হয় সৈফুদ্দিনকে।গত ১৭ জুন রাতে বাগনান ৫ নম্বর মণ্ডলের ১৯৭ নম্বর বুথের সহ-সভাপতি তথা বাঁটুল গ্রামের বাসিন্দা প্রশান্ত দে-র উপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। বিজেপির অভিযোগ, একটি অনুষ্ঠান বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁর ওপর লাঠি, রড নিয়ে চড়াও হয় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। বেধড়ক মারধরের জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় প্রশান্তবাবুর। নৃশংসতার সীমা ছাড়িয়ে যায় তখন, যখন নিহতের পরিবারের লোকেরা বারবার তাঁর ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। শেষবার ফোন ধরলে ওপার থেকে খুনিরা ঠান্ডা গলায় হুমকি দেয়, ‘মার্ডার করে দিয়েছি, নিয়ে যা। তোরা কেউ এলেও খুন করে ফেলব।’ এই ঘটনায় সরাসরি অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান মফিজুল রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তিনি এলাকাছাড়া।পলাতক তৃণমূল উপপ্রধানকে নিশানা করেই শনিবার সুর চড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সমস্ত গ্রেপ্তার পর্ব শেষ হওয়া মাত্রই দ্রুত চার্জশিট গঠন করা হবে। দোষীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর আইন নিজের হাতে তুলে নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করার সাহস না পায়। পূর্বতন সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এতদিন বাংলায় শাসকের আইন চলত বলেই আজ এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে এবার থেকে শুধুই আইনের শাসন চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই অনমনীয় মনোভাবের পর এখন দেখার, বাকি ৪০ জন পলাতক অভিযুক্ত কত দ্রুত পুলিশের জালে ধরা পড়ে।[TECHTARANGA-POST:10346]হিডেন স্টোরিজ নিউজ