Hidden Stories (বাংলা)

বিজেপির সঙ্কল্পপত্র: বাম-তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেও কংগ্রেসী বিধান রায়কে শ্রদ্ধা গেরুয়া ইস্তাহারে?

কলকাতা: ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা দিতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রকাশিত হতে চলেছে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সঙ্কল্পপত্র’। সূত্রের খবর, তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলিকে টেক্কা দিতে এবং রাজ্যের বেহাল দশা ঘোচাতে একগুচ্ছ ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নিয়ে আসছে পদ্ম শিবির!লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বেকার ভাতার পাল্টা চাল:তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জনপ্রিয়তা মেপে নিয়েই বিজেপি তাদের সঙ্কল্পপত্রে বড় ঘোষণা করতে চলেছে। ক্ষমতায় এলে মহিলাদের মাসিক ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মতোই একটি প্রকল্পের আওতায় মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও, সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো এবং শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস থাকছে ইস্তাহারে।বাম-তৃণমূলকে তোপ, বিধান রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা:বিজেপির এই ইস্তাহারে গত পাঁচ দশকের পশ্চিমবঙ্গকে ‘পতনের আখ্যান’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বিজেপি এখানে বামেদের ‘অতি-রাজনৈতিকীকরণ’ এবং তৃণমূলের ‘দুর্নীতি’কে আক্রমণ করলেও কংগ্রেস জমানাকে সেভাবে বিঁধতে চায়নি। বরং, আধুনিক বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরই আদর্শে রাজ্যে আরও চারটি নতুন পরিকল্পিত শহর তৈরির কথা বলা হয়েছে!সিঙ্গুরে শিল্প ও নতুন পরিকাঠামো:যে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের বিদায় বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, সেই সিঙ্গুর নিয়েই এবার স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে বিজেপি। ইস্তাহারে জানানো হচ্ছে, স্থানীয়দের সম্মতিতে ১,০০০ একর জমি নিয়ে সেখানে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ গড়া হবে। এছাড়াও, উত্তরবঙ্গে আইআইটি ও আইআইএম প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি থাকতে চলেছে। সুন্দরবন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত যাতায়াতের সময় কমিয়ে ৭-৮ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথাও বলছে বিজেপি। সেইসঙ্গে, রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পও চালু করা হবে বলে জানানো হচ্ছে। নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া অবস্থান:রাজ্যে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে এবং পশ্চিমবঙ্গকে ‘জিহাদ-মুক্ত’ করতে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বিজেপির এই খসড়া ইস্তাহারে। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান এবং রাজবংশী ও কুড়মালি ভাষাকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রতিশ্রুতিও থাকছে এতে।বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের ড্রপবক্সে দেওয়া হাজার হাজার পরামর্শ এবং বিশিষ্টজনেদের মতামতের ভিত্তিতেই এই ‘সর্বসমাবেশী’ ইস্তাহার তৈরি করা হয়েছে। এখন দেখার, এপ্রিলের শুরুতে এই ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশের পর বাংলার ভোট রাজনীতিতে কতটা হাওয়া ঘোরে।

বিজেপির সঙ্কল্পপত্র: বাম-তৃণমূলকে কটাক্ষ করলেও কংগ্রেসী বিধান রায়কে শ্রদ্ধা গেরুয়া ইস্তাহারে?

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার