ওলা-উবরের দাদাগিরি শেষ করতে বাজারে এল ‘ভারত ট্যাক্সি’! অমিত শাহের ঘোষণায় কাঁপছে বড় কোম্পানিগুলো
গান্ধীনগর: বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির একচেটিয়া ব্যবসা ও যাত্রীদের শোষণের দিন এবার ফুরোতে চলল। ওলা-উবরের মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দেশে সম্পূর্ণ নতুন এবং বৈপ্লবিক এক ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’র সূচনা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত শনিবার গুজরাতের ১৪টি শহরে এই জিরো-কমিশন ও সমবায় মডেলের ক্যাব সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে নাম না করে বেসরকারি অ্যাপ ক্যাব সংস্থাগুলির তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই কোম্পানিগুলি চালক ও যাত্রীদের স্বার্থ দেখার বদলে শুধু নিজেদের মুনাফা বাড়াতে ব্যস্ত। চালকদের অধিকার রক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্তি দিতেই এবার সরকারি স্তরে এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।[TECHTARANGA-POST:10360]ভারতের ইতিহাসে এটিই প্রথম সমবায়-মালিকানাধীন এবং সম্পূর্ণভাবে চালকদের দ্বারা পরিচালিত ট্যাক্সি সার্ভিস। গত বছরের ডিসেম্বরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়ার পর এবার আনুষ্ঠানিকভাবে গুজরাতের আমদাবাদ, সুরাত, রাজকোট সহ ১৪টি শহরে বাইক, অটো এবং চার চাকার গাড়ি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে ‘ভারত ট্যাক্সি’। অমিত শাহ অভিযোগ করেন, বেসরকারি অ্যাপগুলি চালকদের উপার্জনের একটা বড় অংশ কমিশন বাবদ কেটে নেয় এবং সময়মতো পাওনা টাকা দেয় না। এমনকি যাত্রীদের সামান্য অভিযোগে চালকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই ব্ল্যাকলিস্ট করে দেওয়া হয়। কিন্তু ‘ভারত ট্যাক্সি’তে কোনও কমিশন কাটা হবে না, ভাড়ার পুরো টাকাই পাবেন চালকরা এবং তাঁরাই হবেন এই ব্যবসার অংশীদার। ভারত ট্যাক্সির বাজার নষ্ট করতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলি লোকসান সয়েও ভাড়া কমানোর যে চক্রান্ত করছে, তা দেশবাসী সফল হতে দেবে না বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দেন মন্ত্রী।[TECHTARANGA-POST:10359]গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেল, স্বরাষ্ট্র রাষ্ট্রমনন্ত্রী হর্ষ সাংভি এবং ৪ হাজারেরও বেশি চালকের উপস্থিতিতে এই মেগা উদ্বোধনের পর কলকাতার বাসিন্দাদের জন্যও বিরাট সুখবর শোনালেন অমিত শাহ। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী ৩১ জুলাইয়ের আগেই কলকাতা, মুম্বই, পুনে, নাগপুর, লখনউ, চণ্ডীগড় এবং জয়পুরে অফিশিয়ালি ধামাকা এন্ট্রি নিতে চলেছে ‘ভারত ট্যাক্সি’। শুধু তাই নয়, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ৫০০টিরও বেশি শহর ও মফস্বলে এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পরিষেবাটি মসৃণ করতে ইতিমধ্যেই রেল, মেট্রো, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বিশেষ চুক্তিও সারা হয়ে গিয়েছে। ফলে ওলা-উবরের একচেটিয়া সাম্রাজ্যে যে এবার বড়সড় ধস নামতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।