Police Clash: উজ্জয়িনীতে রাস্তা সম্প্রসারণ কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র, লাঠি-গ্যাস
ভোপাল: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শুরু হওয়া রাস্তা সম্প্রসারণ কর্মসূচি। আর সেই কেন্দ্র করে সোমবার সকালে চরম উত্তেজনা ছড়াল। ঐতিহাসিক শাহি মসজিদের আংশিক উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে উজয়িনীতে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ)-সহ প্রায় দুই হাজারেরও বেশি পুলিশ কর্মী।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৮ সালে শিপ্রা নদীর তীরে বসতে চলেছে ১২ বছরে একবার হওয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আধ্যাত্মিক মিলনমেলা ‘সিংহস্থ কুম্ভ’। ওই সময় কোটি কোটি পুণ্যার্থীর সমাগম সামাল দিতে শহরের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রায় ৯.৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭৩০ মিটারের একটি রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে উজ্জয়িনী পুরনিগম। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৭২টি কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু ধর্মীয় স্থান ও প্রাচীন শাহি মসজিদের একাংশও রয়েছে। প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন বলে দাবি করা এই ওয়াকফ সম্পত্তিটির প্রার্থনাকক্ষ, একটি মিনার ও সংলগ্ন অংশ উচ্ছেদের নোটিস জারি হতেই বিরোধের সূত্রপাত।হাইকোর্টে বিষয়টি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও সোমবার সকালে পুরনিগমের দল উচ্ছেদ চালাতে গেলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা বিপুল সংখ্যায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন। সূত্রের খবর, পূর্বে সম্প্রদায়েরই একটি অংশ নিজেদের উদ্যোগে মসজিদের চিহ্নিত অংশ সরাতে রাজি হলেও অন্য একটি গোষ্ঠী তার তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। পুলিশ ঘেরাও করলে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। জবাবে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাসের সেল ছোড়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গণ্ডগোল এড়াতে মসজিদ চত্বরের ৫০০ মিটারের মধ্যে ব্যারিকেড গড়ে তোলা হয়েছে।এই ঘটনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন ও রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন একটি ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ধ্বংস করা সংবেদনশীলতার অভাব। মামলাটি যখন আদালতে বিচারাধীন, তখন বার বার মসজিদ ঘিরে ফেলে প্রশাসন কী বার্তা দিতে চাইছে?” বিকল্প পথ থেকে জমি অধিগ্রহণের দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে, পুরনিগমের সভানেত্রী কলাবতী যাদব জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৯ কিলোমিটার নতুন ঘাট নির্মাণ ও রাস্তা সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা দেখাতে রবিবার খোদ মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও এই রাস্তা সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য উজয়িনীতে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক ভিটের একাংশ নিজে হাতে সাবল দিয়ে ভেঙে দেন।