Hidden Stories (বাংলা)

Suvendu Adhikari: আদানিদের লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণার পরই শুভেন্দুর বার্তা, 'জমি থেকে লগ্নি, রোডম্যাপ তৈরি'

বর্ধমান: বৃহস্পতিবার কলকাতায় রাজ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের মেগা ঘোষণা করেছিল গৌতম আদানি। বন্দরের সম্প্রসারণ থেকে ডেটা সেন্টার, সৌরবিদ্যুৎ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি, বাংলার শিল্পে নতুন জোয়ার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তিনি। সেই মেগা ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠের প্রশাসনিক সভা থেকে রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনার নতুন রূপরেখা ও হিসাব তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শিল্পের জন্য জমি, সেই জমি থেকে লগ্নি আর সেই লগ্নি থেকে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান, এই সুস্পষ্ট ‘রোডম্যাপ’ নিয়েই এগোচ্ছে বাংলা।বৃহস্পতিবার শহরে এসে বন্দর, শক্তি ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানিদের বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের বার্তা রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি শিল্পমহলেও নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে। আর শুক্রবার বর্ধমানের সভা থেকে সেই আবহকে আরও উসকে দিয়ে একের পর এক নতুন প্রকল্প ও বরাদ্দের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বাংলা এখন কেবল ঐতিহ্যবাহী শিল্পেই আটকে নেই; সেমিকন্ডাক্টর থেকে প্রতিরক্ষা, ইস্পাত থেকে সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সব ক্ষেত্রে আধুনিক শিল্পের নতুন হাব হয়ে উঠছে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ৩৩টি শিল্প সংস্থার হাতে জমির চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কেবল এই ৩৩টি প্রকল্পেই প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রাজ্যে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এই তালিকায় ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল, ফার্মা ও MSME-র পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ক্ষেত্রগুলিও অগ্রাধিকার পেয়েছে।বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে দুর্গাপূজোর আগেই নতুন ‘শিল্পভূমি নীতি’ আনার বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রশাসনিক জট কাটাতে এই নীতিতে সরাসরি জমি কেনা, ল্যান্ড পুলিং এবং ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘সিঙ্গল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ বা এক ছাদের তলায় দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি শিল্পে উৎসাহ দিতে ঘোষণা করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ‘ইনসেন্টিভ ফান্ড’, যার সরাসরি সংযোগ থাকবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারের সঙ্গে।রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে কেবল কলকাতা বা তার আশপাশ নয়, পানাগড়, রঘুনাথপুর, খড়্গপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, হরিণঘাটা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের কোচবিহার পর্যন্ত সমস্ত শিল্পাঞ্চলকেই ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন (Defense Production) প্রকল্পের জন্য এক বিরাট মাপের জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। অ্যাডানির মেগা বিনিয়োগ ঘোষণার ঠিক পরদিনই বর্ধমান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই একের পর এক ঘোষণা স্পষ্ট করে দিল— শিল্প ও কর্মসংস্থানকেই আগামী দিনের মূল এজেন্ডা করে এগোতে চাইছে নবান্ন।

Suvendu Adhikari: আদানিদের লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণার পরই শুভেন্দুর বার্তা, 'জমি থেকে লগ্নি, রোডম্যাপ তৈরি'