Siliguri Durga Puja 2026: শতবর্ষে ইতিহাস আর আবেগের মেলবন্ধন, শিলিগুড়ির দুই পুজোয় নস্টালজিয়া ও সামাজিক বার্তার যুগলবন্দি
শিলিগুড়ি: সময়ের স্রোতে বদলে গেছে পাহাড়ঘেরা কাঞ্চনজঙ্ঘার শহরের কোলাহল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের এই ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র শিলিগুড়ির হৃদস্পন্দনে আজও অমলিন ঐতিহ্য ও আবেগের যৌথ ক্যানভাস। শারদোৎসবের আবহে একদিকে যখন শতবর্ষে পা দিয়ে অতীত নস্টালজিয়ায় ডুব দিয়েছে শহরের অন্যতম প্রাচীন মিত্র সম্মিলনী, অন্যদিকে ঠিক তখনই ৭৪তম বর্ষে এক গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণাকে মণ্ডপসজ্জায় রূপ দিয়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে রবীন্দ্র সংঘ ক্লাব।একশ বছরে পা দিয়েও থিমের আধুনিক জাঁকজমককে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের সাবেকি ঐতিহ্যেই আস্থা রেখেছে মিত্র সম্মিলনী। তবে শতবর্ষের পুজো প্রাঙ্গণে ঢুকলই মনে পড়ে যাবে এক রূপকথার শহরের কথা, ‘গল্পে গল্পে সেই সকালবেলা, হিলকার্টে টয়ট্রেন’। মণ্ডপ জুড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে পুরনো শিলিগুড়ির চেনা চালচিত্র। হিলকার্ট রোডের বুকের ওপর দিয়ে কু ঝিকঝিক করে এঁকেবেঁকে চলে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন, পুরনো আমলের কাঠের দোকানপাট, কিংবা আঁকাবাঁকা পথে মন্থর গতিতে চলা গরুর গাড়ি, অতীতের সেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে ধরেছেন উদ্যোক্তারা। দেবীর সাবেকি একচালা প্রতিমার সঙ্গে নস্টালজিয়ার এই সুনিপুণ বিন্যাস যেন এক লহমায় প্রবীণদের ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে শৈশবের দিনগুলিতে।ঠিক অন্য মেরুতে দাঁড়িয়ে ৭৪তম বর্ষে রবীন্দ্র সংঘ বেছে নিয়েছে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবসম্মত আধুনিক ভাবনা। তাদের এবারের প্রতিপাদ্য, ‘আমি’। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদের জাঁতাকলে পিষে যাওয়া একটি একাকী শিশুর মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণা ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে তারা নিখুঁত শিল্পভাবনায় তুলে ধরেছে। যে জটিল বাস্তবতাকে সমাজ প্রায়শই এড়িয়ে যায়, মণ্ডপের অলংকরণে তাকেই সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী ও উদ্যোক্তারা।একদিকে মিত্র সম্মিলনীর মণ্ডপে প্রবীণ থেকে নবীন, সবার চোখের কোণে পুরনো শিলিগুড়ির স্মৃতির আবেগ, অন্যদিকে রবীন্দ্র সংঘের প্রাঙ্গণে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক নীরব উপলব্ধি। ইতিহাস আর আধুনিক সামাজিক ভাবনার এই অপূর্ব যুগলবন্দিতেই এবার উত্তরবঙ্গের পুজো পরিক্রমায় এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছে শহরের এই দুই নামী পুজো।