SRFTI : বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরে পার পাবে না, এসআরএফটিআই-কাণ্ডে কড়া বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর
কলকাতা: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর ক্যাম্পাসে তুমুল ভাঙচুর, ছাত্র পেটানো এবং স্বামী বিবেকানন্দ ও ভারতমাতার ছবির চরম অবমাননার ঘটনায় এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ পঞ্চসায়র থানায় ইতিমধ্যেই চারটি পৃথক এফআইআর দায়ের করলেও, এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ। তবে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের নামে স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার অপমান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ করবে পুলিশ।ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। এসআরএফটিআই-এর প্রেক্ষাগৃহে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এবং ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে এক সভার আয়োজন করেছিল আরএসএস-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ (এবিজিপি)। সকাল ১০টা নাগাদ অনুষ্ঠান শুরু হতেই বহিরাগতদের প্রবেশ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সংগঠনের সভা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভে শামিল হন পড়ুয়াদের একাংশ। পড়ুয়াদের দাবি, প্রেক্ষাগৃহে তাঁদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস হয়। সেখানে বহিরাগতদের সভা মানা যায় না। প্রতিবাদ হিসেবে দেওয়ালে পোস্টার সাঁটানোর পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের ওপর পেরেক লাগানো লাঠি ও দেশি অস্ত্র নিয়ে চড়াও হন সভার সদস্যরা। পড়ুয়াদের বাঁচাতে গিয়ে একাধিক অধ্যাপকও মারধরের শিকার হন। পালটা বোতল ও ইটবৃষ্টিতে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে রাত পর্যন্ত।অন্যদকে, এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায়ের পালটা অভিযোগ, বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠন পরিকল্পিতভাবে অনুষ্ঠান বানচাল করতে এসেছিল। উত্তেজনার মাঝে ভারতমাতার ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারা হয়। এই দৃশ্য সামনে আসতেই গর্জে উঠলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। সোমবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিংসা নিন্দনীয়। তবে গণ্ডগোলে যদি স্বামী বিবেকানন্দ বা ভারতমাতার ছবিতে লাথি পড়ে, তবে বুঝতে হবে ভয়ঙ্কর সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। কোনও বাঙালি ছাত্র বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মারতে পারে না। ওরা বামপন্থী হতে পারে কিংবা নকশাল, কিন্তু এই অপসংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ তদন্ত করছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা এই পরিবেশ বদলাবই।’’ মন্ত্রীর সুরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভাস্কর সর্দারও ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।এদিকে, সোমবার ক্যাম্পাসের সামনে মৌনী প্রতিবাদে বসেন পড়ুয়ারা। এসআরএফটিআই প্রাক্তনী সংসদের সহ-সভাপতি অনির্বাণ দত্ত দাবি করেন, বাইরে থেকে আসা তাণ্ডবকারীরা পেরেক লাগানো লাঠি নিয়ে প্রস্তুত হয়েই এসেছিল। একাধিক পড়ুয়ার মাথা ফেটেছে, কপাল কেটেছে, চিকিৎসাধীন অনেকে। ঘটনার প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, ঊষসী চক্রবর্তীর মতো বাম মনোভাবাপন্ন বিশিষ্ট প্রাক্তনী ও তারকারা। শিক্ষক সমিতি 'কুটা'-র সাধারণ সম্পাদক সাগরময় ঘোষও শিক্ষাঙ্গনে এমন হিংসার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়ানো গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন। পঞ্চসায়র থানার পুলিশ ৪টি এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বার্তার পর পুলিশি পদক্ষেপ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সব মহলের।