Rahul Gandhi: ভরা মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রসিকতা রাহুলের, ‘দেউলিয়া কংগ্রেস’, পাল্টা বিজেপির
নয়াদিল্লি: ভরা মঞ্চে দাঁড়িয়ে কৌতুকশিল্পীর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তীব্র ঠাট্টা-তামাশা এবং তাঁর কণ্ঠস্বরের অনুকরণ। তার পরেই তা নিয়ে হাসিতে লুটিয়ে পড়া। রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর এই 'রসিকতা'ই এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ইন্দোরে আয়োজিত কংগ্রেসের 'ছাত্রদের গূঞ্জ' অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর এই আচরণকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিজেপি। হাত শিবিরের শীর্ষনেতার এমন পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে শাসকদল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গিয়ে দেশনায়ক তথা তাঁর প্রয়াত মাতাকে অপমান করার মতো নিকৃষ্টতম স্তরে নেমে গিয়েছে কংগ্রেস।শনিবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে যুব ও ছাত্রদের একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছিল বিরোধী দল কংগ্রেস। সেখানেই স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান পুলকিত মণির সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কেন্দ্রের মোদী সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিদেশনীতির সমালোচনা করতে গিয়েই শুরু হয় তামাশা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিরপরিচিত কণ্ঠস্বর এবং তাঁর শরীরী ভাষা অনুকরণ করে কৌতুক পরিবেশন করা হয়। রাহুলও হাত মিলিয়ে তাতে ইন্ধন জোগান।মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদীকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে রাহুল বলেন, “আপনি তো স্রেফ কোনও বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছেন না! দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসে কেউ ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব রক্ষা করতে পারেন না। তাঁদের বন্ধুত্বের দিকে নজর দিলে চলে না; তাঁদের আসল কাজ হলো দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।” কথাগুলির পাশাপাশি মঞ্চজুড়ে যে ধরনের ভঙ্গি ও সংলাপ আদানপ্রদান করা হয়, তা সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করতেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির।এই ঘটনা সামনে আসতেই রবিবারের সকালে আক্রমণাত্মক রূপ নেয় বিজেপি। রাহুলের এই 'সার্কাস রাজনীতি'র বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় সরব হন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সি আর কেশবন। একটি ভিডিয়ো বার্তা জারি করে তিনি বলেন, “একজন প্রবীণ ও ক্ষীনকায় মাতাকে নিয়ে ঠাট্টা করে কার্যত সমগ্র নারী সমাজকেই অপমান করেছেন রাহুল গান্ধী। কোনও ভদ্র, রুচিশীল বা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এই ধরনের থার্ড ক্লাস আচরণে কৌতুক খুঁজে পেতে পারেন না। কিন্তু রাহুল গান্ধীকে দেখা গিয়েছে সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়তে।”কেশবন আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের অসভ্য ও কুরুচিকর সংস্কৃতিকে প্রচ্ছয় দেওয়ার জন্যই যুবসমাজের কাছে রাহুলের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যে এসে ঠেকেছে। এমনকি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডুসু) নির্বাচনে কংগ্রেস সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-এর ভরাডুবির কারণ হিসেবে রাহুলের এই ‘বিদ্বেষের রাজনীতি’কেই দায়ী করেন তিনি। কেশবনের কথায়, “এমনিতেই কংগ্রেস দলটা ডুবেছে, শশী থারুরের মতো তাঁদের নিজেদের নেতারাই সে কথা স্বীকার করছেন। আর রাহুল গান্ধী যে ভাবে ক্লাউন ও কুরুচিকর সার্কাসকে সমর্থন করছেন, তাতে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁকে আর গম্ভীরভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেখানে প্রবীণদের সম্মান জানাতে চেয়ার এগিয়ে দেন, সেখানে রাহুল তাঁদের অপমান করে উল্লাস করছেন।”ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী প্রলহাদ জোশীও। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে জোশী লেখেন, “রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস পার্টি নৈতিক দেউলিয়াপনার চরম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শিক্ষার্থীদের একটি অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী মোদীজির প্রয়াত মাতাকে অপমান করা এবং বিদ্রূপ করাটা অনভিপ্রেত। এতে তাঁদের মানবিক অনুভূতি ও ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অভাবই পরিষ্কার ফুটে উঠছে।”রাহুলের এই আচরণকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামিও। তিনি বলেন, “কংগ্রেস নেতার মুখের ভাষা দিন দিন খারাপ থেকে চরম খারাপের দিকে যাচ্ছে। ভারতীয় রাজনীতির মর্যাদায় এটি একটি বড় কলঙ্ক। ভারতের সংস্কৃতি কখনও এমন ভাষা শেখায় না। দেশের মানুষ কিন্তু শীর্ষনেতাদের কথা, ভাবমূর্তি এবং তাঁদের মানসিকতা খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছেন। আর সেই কারণেই একের পর এক নির্বাচনে সাধারণ মানুষ কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করছেন।”সব মিলিয়ে, পুজোর মরসুমের মুখে দাঁড়িয়ে ইন্দোরের মঞ্চে রাহুলের এই কৌতুক-রসিকতা বিরোধীদের হাতে নয়, উল্টে শাসকদলের হাতেই অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। যুবসমাজকে কাছে টানতে গিয়ে উল্টে কুরুচিকর আচরণের অভিযোগে কোণঠাসা হতে হলো হাত শিবিরকে।