Prosenjit Chatterjee: পরপর দু’বছর পুজোয় ছবি নেই প্রসেনজিতের, জেলার পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে অভিনেতার বড় দাবি!
দুর্গাপুর: টানা দ্বিতীয় বছর উৎসবের মরশুমে প্রেক্ষাগৃহে তাঁর কোনও নতুন ছবি মুক্তি পায়নি। রুপোলি পর্দায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব অনুপস্থিতি বাংলা সিনেমার দর্শকদের মনে কিঞ্চিৎ আক্ষেপ তৈরি করলেও, মাঠ-ময়দানে অনুরাগীদের ভালোবাসার জোয়ারে ভেসে সেই শূন্যতা যেন এক নিমেষে সুদে-আসলে উসুল করে নিলেন টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’। দুর্গাপুরের এক জমজমাট পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে মেগাস্টার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, পর্দায় ছবি থাকুক বা না থাকুক, তিনি আদতে এই সাধারণ মানুষেরই পরিবারের সদস্য।উৎসবের মরশুমে তারকাস্পর্শে চাঙ্গা ইস্পাতনগরীর শারদোৎসব। গান, স্মৃতিচারণ আর আবেগঘন বার্তার জাদুতে দুর্গাপুরবাসীর মন জয় করে নিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শনিবার ইস্পাতনগরীর অন্যতম প্রবীণ ও জনপ্রিয় পুজো, চণ্ডীদাসের রাজেন্দ্র প্রসাদ সর্বজনীন দুর্গাপুজো প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন তিনি। প্রিয় ‘বুম্বাদা’কে এক ঝলক চোখের সামনে দেখতে এবং তাঁর কণ্ঠের সংলাপ শুনতে মণ্ডপ চত্বরে উপচে পড়ে হাজার হাজার মানুষের ভিড়।এ বছর ৬৬ বর্ষে পা দিয়েছে চণ্ডীদাসের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো। সমাজকর্মী পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজোকে ঘিরে বরাবরের মতোই এলাকা জুড়ে ছিল তুঙ্গে উন্মাদনা। তবে প্রসেনজিতের পদার্পণ সেই উদ্দীপনাকে পৌঁছয় অন্য মাত্রায়। মঞ্চে ওঠামাত্রই হাততালির গর্জনে কেঁপে ওঠে এলাকা। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে টলিউডের এই প্রবীণ অভিনেতাকে সানন্দ সংবর্ধনা জানানো হয়।অনুরাগীদের এই ভালোবাসায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রসেনজিৎ। ছবি না থাকার আক্ষেপ দূরে ঠেলে দিয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "ছবি মুক্তি না পেলেও আপনাদের থেকে দূরে থাকা যায় না। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন আপনাদের ভালোবাসায় আর অভিনয়ের পথ ধরেই সবার হৃদয়ে থাকতে চাই। আমি কোনও দূর আকাশের তারকা নই, আমি আপনাদেরই পরিবারের একজন।"তারকাকে ঘিরে উদ্যোক্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে ছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা। তবে কড়া কর্ডন টপকেও অনুরাগীদের উচ্ছ্বাসকে ধরে রাখা যায়নি। প্রসেনজিতের মুখ থেকে জনপ্রিয় গানের কলি ও আন্তরিক কথোপকথন পুজো কমিটির ৬৬তম বর্ষের উদযাপনে লিখে দিয়ে গেল এক রঙিন ও স্মরনীয় অধ্যায়।