Nila Patil: সুইডেনের সংসদে মহারাষ্ট্রের মেয়ে! সাংসদ নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়লেন নীলা ভিক্সে পাতিল, ভারতে কী পরিচয় তাঁর?
স্টকহোম: সুদূর ইউরোপের মাটিতে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কন্যার নতুন ইতিহাস। সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে স্টকহোম সিটি কেন্দ্র থেকে পার্লামেন্ট (রিক্সদাগ)-এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন ৪১ বছর বয়সী নীলা ভিক্সে পাতিল। আগামী দিনে দেশের উন্নয়ন ও শহরবাসীর সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত তিনি। কিন্তু সুইডেনের রাজনীতির আঙিনায় উজ্জ্বল এই নক্ষত্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঠিক কতটা গভীর? উত্তর খুঁজতে গেলে নজর রাখতে হবে ভারতের রাজনীতি ও সমাজসেবার এক ঐতিহাসিক পরিবারে।স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বরাজনীতিতে নজর কাড়া নীলা ভিক্সে পাতিলের ভারতের সঙ্গে যোগসূত্র কোথায়? আসলে নীলা হলেন ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ এবং ‘ভিক্সে পাতিল ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান অশোক ভিক্সে পাতিলের কন্যা। কিন্তু তাঁর পরিবারের শিকড় জড়িয়ে আছে মহারাষ্ট্রের প্রথম সারির রাজনীতিতে। নীলা হলেন ভারতের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালাসাহেব ভিক্সে পাতিলের নাতনি এবং মহারাষ্ট্র সরকারের বর্তমান প্রভাবশালী মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিক্সে পাতিলের ভাইঝি। শুধু তা-ই নয়, এশিয়ার প্রথম সমবায় চিনি কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ভিঠলরাও ভিক্সে পাতিলের প্রপৌত্রী হলেন এই নীলা। ফলে রক্তেই রাজনীতি ও সমাজসেবার ধারা বয়ে চলেছে তাঁর।সুইডেনে জন্ম হলেও নীলার শৈশব ও কৈশোরের একটা বড় অংশ কেটেছে মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে। ভারতের প্রতি তাঁর টান এবং পরিবারের স্মৃতি আজও তাঁর মনে অমলিন। আবেগঘন কণ্ঠে নীলা বলেন, “আমি ভারতকে গভীরভাবে ভালোবাসি, এই দেশের সঙ্গে আমার আত্মার যোগাযোগ রয়েছে। ভারতে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে। আমি আমার দাদুকে খুব মিস করি। জীবনের শেষ দিনগুলিতে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহে আমাকে ফোন করতেন। যখন আমার বয়স মাত্র ১৫, তখন তিনিই আমাকে প্রথম বাজেট পড়তে শিখিয়েছিলেন। আশা করি, আমার এই সাফল্য দাদুকে গর্বিত করবে।”সুইডেনের ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে নিজের জায়গা নিশ্চিত করার পর নীলা সংবাদ সংস্থাকে জানান, “পার্লামেন্টের অংশ হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। দেশের ও এই শহরের কল্যাণে নিজের অবদান রাখতে চাই। যাঁরা ভোট দিতে পারেন না, আমি তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে চাই। এমন এক সমাজ গড়াই আমার লক্ষ্য, যেখানে প্রতিটি শিশু সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ পাবে। আমাদের প্রয়োজন পরিষ্কার জল, জীবন্ত প্রকৃতি এবং মানবসৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগমুক্ত একটি বাসযোগ্য পৃথিবী।”উল্লেখ্য, নীলার শিক্ষাগত ও রাজনৈতিক যোগ্যতাও অত্যন্ত ঈর্ষণীয়। সুইডেনের গোটেনবার্গ স্কুল অব বিজনেস থেকে অর্থনীতি ও আইনে স্নাতক এবং এমবিএ করার পাশাপাশি স্পেনের মাদ্রিদের 'ইউনিভার্সিটি দে কমপ্লেটেন্স' থেকেও এমবিএ করেছেন তিনি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক নীতিতে বিশ্বাসী ‘গ্রিন পার্টি’-র সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। স্টকহোম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এমনকী, সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্টিফান লোফভেনের আমলে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে অর্থ, কর এবং গৃহায়ন বিষয়ের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন নীলা। বর্তমানে ২০২০ সাল থেকে তিনি প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্স (PwC)-এ স্ট্র্যাটেজি ও ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত।সম্প্রতি ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে বামপন্থী বিরোধী দলগুলি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাসিল করেছে। ৩৪৯ আসনের রিক্সদাগে বিরোধী জোট পেয়েছে ১৭৬টি আসন। গ্রিন পার্টির এই গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পেছনে নীলার মতো তরুণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্টকহোমের মসনদে বসা নীলা ভিক্সে পাতিল এখন ভারত ও সুইডেন, উভয় দেশেরই গর্বের প্রতীক।