Nandigram and Rejinagar Bypoll Results: রেজিনগরেও পদ্মঝড়! শুভেন্দুর ‘রেকর্ড’ দাবির মুখেই দু’কেন্দ্রেই অপ্রতিরোধ্য বিজেপি
কলকাতা: নন্দীগ্রামে নাকি ‘রেকর্ড’ তৈরি হতে চলেছে! ভোট দিয়ে বেরিয়েই একগাল হেসে দাবিটি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬ সালে তাঁর পাওয়া সেই ৮২ হাজার ভোটের রেকর্ডকেও নাকি এবার ছাপিয়ে যাবেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ! রাজনৈতিক মহলে তখন তা নিয়ে জল্পনার অন্ত ছিল না। নন্দীগ্রাম তো না হয় শুভেন্দুর নিজের গড়, সেখানে পদ্ম ফোটা স্বাভাবিক। কিন্তু রেজিনগরের মতো ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দুর্গে কী হবে? সেখানেও কি প্রথমবার খাতা খুলতে পারবে গেরুয়া শিবির?ভোটগণনার প্রথম রাউন্ডের প্রাথমিক ইঙ্গিত কিন্তু সেই জল্পনাতেই নাটকীয় সিলমোহর দিচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট এবং প্রথম পর্বের ইভিএম গণনা শেষে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর, দুই কেন্দ্রেই বিরোধীদের বহুদূরে ঠেলে দিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন বিজেপি প্রার্থীরা।গণনাকেন্দ্র সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠ বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ শুরুতেই প্রতিপক্ষদের খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রাথমিক গণনায় হাসিরানি যেখানে এক হাজারের বেশি ভোট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন, সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধানের প্রাপ্তি মাত্র ১৮টি ভোট! ঋতব্রত তৃণমূল ৮টি, আইএসএফ ৭টি এবং বামেরা পেয়েছেন সাকুল্যে ৩টি ভোট। অন্যদিকে, রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার পেয়েছেন ১০৩৩টি ভোট। সেখানে মমতা তৃণমূল ১০৯ ও কংগ্রেস ৯৩টি ভোট পেয়ে বহুদূরে পিছিয়ে রয়েছে। তৃণমূল থেকে আলাদা হয়ে দল গড়া হুমায়ুন কবীরের পুত্র গোলাম নবি আজ়াদের দল ঝুলিতে পুরতে পেরেছে মাত্র ৬৫টি ভোট।উল্লেখ্য, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম, দুটি আসনেই জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম মেনে তিনি নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় এই উপনির্বাচন। একইভাবে রেজিনগর ও নওদা, দুটি আসনে জেতা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। রেজিনগরে পুত্রকে দাঁড় করালেও ভোটের দিনই ‘শুভেন্দুর গদ্দারি’ ও ভোটের প্রহসনের অভিযোগ তুলে চোখের জলে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ুন। গণনার সকাল সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণ করল।যদিও বিরোধীদের দাবি, দুই কেন্দ্রেই ব্যাপকভাবে ইভিএম রিগিং ও ছাপ্পা ভোট দিয়েছে বিজেপি। রেজিনগরে খোদ বিজেপি প্রার্থী বুথে ঢুকে রিগিং করেছেন বলে অভিযোগ তুলে ভোট স্থগিত রাখার দাবিতে কমিশনের দ্বারে হেঁটেছে কংগ্রেস। বিজেপির পাল্টা জবাব, “পরাজয় নিশ্চিত জেনেই বিরোধীরা আগেভাগে অজুহাত সাজাচ্ছে।”১৫ রাউন্ডের এই গণনার জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।