Siliguri Arrest: বন্ধ দরজার আড়ালে চলত পাত্র-পাত্রী খোঁজার নামে 'কালো খেলা'! হাতেনাতে ধরা পড়ল বিহারের রহস্যময়ী তরুণী!
শিলিগুড়ি: চার হাত এক করে দেওয়ার লোভনীয় প্রতিশ্রুতি! পাত্র বা পাত্রীর ছবি আর মেম্বারশিপের নাম করে চাওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা। কিন্তু টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই গায়েব সেই সংস্থা, ফোনও বন্ধ! ম্যাট্রিমনি বা বিবাহ নিবন্ধক সংস্থার নাম ভাঙিয়ে শহরজুড়ে এই নতুন ধরনের ‘বিয়ের ফাঁদ’ পেতে প্রতারণার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেফতার করল নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থানার পুলিশ। হানা দেওয়া হলো শিলিগুড়ির অভিজাত আবাসনে। ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে আরও দুই তরুণীকে আটক করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিলিগুড়ির শক্তিগড়ের ৫ নম্বর রাস্তার একটি ফ্ল্যাটে আচমকা অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই ওই তিনজনকে পাকড়াও করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কাকলি বিশ্বাস নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃত কাকলি মূলত বিহারের বাসিন্দা। অন্যদিকে আটক হওয়া দুই তরুণী স্থানীয় শক্তিগড় এলাকারই বাসিন্দা।তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে প্রতারণার চমকপ্রদ সব তথ্য। চক্রটি নামজাদা একটি ম্যাট্রিমনি সংস্থার ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ফোনে যোগাযোগ করত। ফোনে তাদের দেওয়া হতো মনের মতো পাত্র-পাত্রীর ছবি ও বায়োডাটা পাঠনোর প্রতিশ্রুতি। অভিযোগ, রেজিস্ট্রেশন এবং প্রসেসিং ফি-এর অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে খসিয়ে নেওয়া হতো বিপুল অঙ্কের টাকা। কিন্তু একবার টাকা পকেটে গেলেই উবে যেত সব প্রতিশ্রুতি! পাত্র-পাত্রীর তথ্য তো দূরের কথা, ফোন নম্বরও ব্লক করে দেওয়া হতো।এই ভুয়ো চক্রে নামজাদা কোনও আসল ম্যাট্রিমনি সংস্থার ভেতরের লোক জড়িত আছে কি না, কিংবা সংস্থার মালিকদের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এনজেপি থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃত কাকলি বিশ্বাসকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, সমাজমাধ্যমে বা অচেনা ফোনে ম্যাট্রিমনি সংস্থার প্রতিশ্রুতি দেখে অনলাইনে টাকা লেনদেন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন। না হলে আপনার বিয়ের স্বপ্ন বদলাতে পারে সর্বস্ব হারানোর দুঃস্বপ্নে!