Teacher Murder : সম্পর্ক ভাঙার আক্রোশ, লখিমপুর খেরির স্কুলে ঢুকেই শিক্ষিকাকে গুলি করে আত্মঘাতী যুবক
লখনউ: প্রেমের সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন তরুণী। সেই আক্রোশেই স্কুলের চত্বরে ঢুকে প্রকাশ্যে তরুণী শিক্ষিকাকে গুলি করে হত্যা করল এক যুবক। এর পর নিজের মাথায় রিভলভার উঁচিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হলো অভিযুক্তও। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরির ‘চিলড্রেনস অ্যাকাডেমি স্কুল’-এ ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। খুদে পড়ুয়াদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠে গেল।পুলিশ সূত্রের খবর, মৃত তরুণী শিক্ষিকার নাম নিশাত ফাতেমা (২৬)। তিনি ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত এক বছর ধরে শিক্ষকতা করছিলেন। অভিযুক্ত যুবক ২৭ বছর বয়সি মহম্মদ সৌদ। দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি নিশাত সেই সম্পর্কে ইতি টানেন। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা ও ক্ষোভ থেকেই এমন চরম পথ বেছে নেয় সৌদ।সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে স্কুলেই ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত। এর পর নিশাতকে ডেকে দোতলার করিডোরে নিয়ে যায় সে। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, খুদে পড়ুয়াদের সামনেই নিশাতের হাত ধরে জোর করে দোতলার দিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে সৌদ। তরুণী নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি। করিডোরে দু’জনের বাদানুবাদের সময় আচমকাই ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে নিশাতের মাথায় গুলি চালায় যুবক। রক্তভেজা শরীরে তরুণী মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই নিজের মাথাতেও গুলি চালায় সৌদ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের।ঘটনার আকস্মিকতায় তীব্র হুড়োহুড়ি লেগে যায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিকট গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে খুদে পড়ুয়ারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোট চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে এত সহজে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কীভাবে দুষ্কৃতী স্কুলে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।