Kumari Puja Maha Ashtami: অঞ্জলি আর কুমারী পুজোর আবহে আবার ছন্দে কলকাতা
কলকাতা: মহাষ্টমীর মহালগ্নে দেবী আরাধনায় মাতোয়ারা সমগ্র বঙ্গসমাজ। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়ে। তবে মহাষ্টমীর সকালে ভক্তিসাগরের আসল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনগুলি। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণের ভাবধারায় কঠোর নিয়ম-নিষ্ঠা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার মহাষ্টমীর সকালে সম্পন্ন হল সনাতন ঐতিহ্যের কুমারী পুজো।এ বারের মহাষ্টমীর আরাধনায় সবচেয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে গঙ্গার তীরে অবস্থিত বেলুড় মঠে। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দের হাত ধরে যে পুজো শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা পূর্ণ করল ১২৫ বছর। ১৯০১ সালের ১৮ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর দিনে যে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোর সূচনা হয়েছিল, দেখতে দেখতে এক শতক পেরিয়ে তা আজ ১২৫ তম বর্ষে পা দিল। ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার এই বিশেষ মাইলফলক স্পর্শ করার বছরে বেলুড় মঠের কুমারী পুজো দেখতে সকাল থেকেই লাখো ভক্তের অভূতপূর্ব সমাগম ঘটে।অন্য দিকে, এ বার মহাষ্টমীতে এক বিশেষ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বারাকপুর রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন। মিশনের দুর্গাপুজো এ বছর সুবর্ণজয়ন্তী অর্থাৎ ৫০ বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই ঐতিহাসিক ৫০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে মহাষ্টমীর শুভ তিথিতে ৫০ জন কুমারীকে এক ছাদের তলায় দেবীজ্ঞানে পুজো করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা এই ৫০ জন কুমারীর চরণে ফুল-জল অর্পণ করে আরাধনা করেন পুজোর উদ্যোক্তারা। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষের এই অনন্য আয়োজন ঘিরে মিশনে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ ও উন্মাদনা লক্ষ করা যায়।একই সঙ্গে মহাষ্টমীর পুণ্যতিথিতে ভক্তি ও বিশ্বাসের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল আদ্যাপীঠ মন্দিরও। সকাল থেকে মা দুর্গার আরাধনা ও অঞ্জলি নিবেদনের পর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী সন্ধিপুজো। মায়ের চরণকমলে আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে দূরদূরান্ত থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন মন্দির প্রাঙ্গণে।উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমেও পূর্ণ ধর্মীয় রীতিনীতি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আয়োজিত হয় ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো। আশ্রমের মহারাজের পৌরোহিত্যে এক শিশুকন্যাকে নবদুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। কোনও রকম কৃত্রিম জাঁকজমক ছাড়াই বৈদিক ঐতিহ্য মেনে এই পুজো দেখতে জলপাইগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ভিড় জমান বহু ভক্ত। অষ্টমীর সকালে বেলুড় মঠ থেকে শুরু করে ব্যারাকপুর, আদ্যাপীঠ কিংবা জলপাইগুড়ি, পুরো রাজ্য জুড়েই রামকৃষ্ণ মিশনের এই চিরন্তন কুমারী পুজোর আবহ তৈরি করল এক অভূতপূর্ব আধ্যাত্মিক আনন্দের প্রচ্ছদ।