Indo-Pak: আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌতরীতে ধাক্কা পাকিস্তানের! দিল্লিতে তলব রাষ্ট্রদূত
নয়াদিল্লি: লোহিত সাগর আর আরব সাগরের উত্তপ্ত রাজনীতির মধ্যেই এবার জলপথে নতুন করে ছড়ালো ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আঁচ। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনীর এক প্রথম সারির রণতরীর গায়ে পাক নৌসেনার জাহাজের বিপজ্জনক ঘষা লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রেই। গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক যখন কার্যত তলানিতে, ঠিক তখনই ১৫ সেপ্টেম্বরের এই ঘটনায় চড়েছে উত্তেজনার পারদ। ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ দিল্লি তড়িঘড়ি তলব করেছে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সাদ আহমেদ ওয়ারাইচকে। সাউথ ব্লকের তরফে পাকিস্তানের এই অবিবেচকের মতো পদক্ষেপকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার মানসিকতা’ বলে তোপ দেগে কড়া ভাষায় বার্তা তুলে দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদের হাতে।নৌসেনা ও বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমানের থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে উত্তর আরব সাগরে যখন রুটিন নজরদারি চালাচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনার ফ্রন্টলাইন রণতরীটি, ঠিক তখনই পাক নৌসেনার অফশোর পেট্রোল ভেসেল ‘পিএনএস হুনাইন’ তীব্র গতিতে আমাদের জাহাজের দিকে ধেয়ে আসে। সামুদ্রিক রেডিয়ো বার্তার মাধ্যমে ভারতীয় নৌসেনার তরফে বারবার সাবধান করা হলেও তাতে কান দেয়নি পাক যুদ্ধজাহাজটি। উল্টে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে গতি বাড়িয়ে ভারতীয় জাহাজের ডানদিক থেকে সামনে চলে আসে পিএনএস হুনাইন এবং ভারতীয় নৌসেনার জাহাজের সামনের অংশে সজোরে ঘষা মারে।উত্তাল সমুদ্রে এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের দরুন বড় কোনো দুর্ঘটনার পথ প্রশস্ত হতে পারতো। তবে সৌভাগ্যবশত ভারতীয় রণতরীর কোনো গাঠনিক ক্ষতি হয়নি, জখম হননি কোনো নৌসেনা কর্মীও। ঘটনার পর নিজস্ব অভিযান জারি রেখেছে ভারতীয় জাহাজটি। তবে ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দিল্লির বিদেশ দপ্তরে আধ ঘণ্টার জন্য ডেকে পাঠানো হয় পাক কূটনীতিককে। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৯১ সালের দ্বিপাক্ষিক সামরিক সমঝোতার ১০ নম্বর ধারা সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে করাচির পাক বিদেশ দপ্তরেও কড়া প্রতিবাদপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে।সমুদ্রের বুকে পাক নৌসেনার এমন গায়ের জোর দেখানোর অভ্যাস অবশ্য নতুন নয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গত ছয় মাসের মধ্যে আরব সাগরে জলদস্যু দমন ও নজরদারি অভিযানে মোতায়েন থাকা ভারতীয় রণতরীর একদম কাছে এসে এমন উস্কানিমূলক মহড়া দেওয়ার ঘটনা এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ঘটলো। এর আগে ২০১১ সালেও সোমালি দস্যুদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া এমভি সুয়েজ জাহাজকে পাহারা দেওয়ার সময় এডেন উপসাগরে পাক নৌবাহিনীর ‘পিএনএস বাবর’ আচমকা এসে ধাক্কা মারে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস গোদাবরী’-তে। সেবারে গোদাবরীর ফ্লাইট ডেক নেটের ক্ষতি হয়েছিল।২০২৪ সালের জুলাইয়ে লহরে আসা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ পিএনএস হুনাইন যেভাবে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অমান্য করে প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করলো, তাকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না দিল্লি। নৌসেনার তরফ থেকেও সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছে এই অপেশাদার আচরণের কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের সাম্প্রতিক ঠাণ্ডা লড়াইয়ের মধ্যে আরব সাগরের এই অঘটন দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রকে যে নতুন করে এক টানটান সংঘাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।