Humayun Kabir: থানায় হাজিরা, ভোটের মুখে গ্রেফতারির আশঙ্কা হুমায়ূনের
বহরমপুর: রেজিনগর উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন মোড়। উস্কানিমূলক বক্তব্য সংক্রান্ত বিতর্কিত অডিও মামলায় বহরমপুর থানায় হাজিরা দিলেন নওদার বিধায়ক তথা ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। সোমবার সকাল ১১টায় তাঁকে তলব করা হলেও, নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি থানায় পৌঁছে যান। তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে সব রকম সহযোগিতার বার্তা দিলেও থানা চত্বরে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দেন বিধায়ক। নিজের গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশের পাশাপাশি, ভোটের মুখে পুলিশি ‘দমনপীড়ন’ ও বিরোধীদের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে নির্বাচনী ময়দানের সমস্ত জনসভা একতরফা ভাবে বয়কটের বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি।সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি বিতর্কিত অডিও ক্লিপ (যার সত্যতা যাচাই করেনি হিডেন স্টোরিজ নিউজ)। সেখানে মুর্শিদাবাদে নির্মীয়মান একটি বাবরি মসজিদের ওপর বিজেপি পতাকা লাগিয়ে হিংসা ছড়ানোর ছক নিয়ে কথোপকথন হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নামে পুলিশ। অডিওর অন্য প্রান্তে হুমায়ুন ছিলেন, এই অভিযোগে শনিবার তাঁর বাড়িতে সমন পাঠায় বহরমপুর থানা। সোমবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তোলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, যে তিন পুলিশ অফিসার তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছেন, অতীতে তাঁর আত্মীয়কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর দরুন আদালতের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের।হুমায়ুনের মূল আক্রমণ ছিল বিজেপি এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, "বিজেপির কথায় পরিচালিত হয়ে বহরমপুর জেলা পুলিশ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে।" ইতিমধ্যে শক্তিপুর ও রেজিনগর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দলটির বেশ কয়েকজন প্রথম সারির নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বেলডাঙা-২ পঞ্চায়েত সমিতির এক মহিলা সদস্যের স্বামী মঞ্জুর রহমান ওরফে লেবু, রেজিনগর ব্লক সহ-সভাপতি হক মল্লিক, দাদপুর অঞ্চল সভাপতি আব্দুল আলিম, হুমায়ুন-ঘনিষ্ঠ মহম্মদ নাসিম শেখ এবং রাজ্য কমিটির সম্পাদক সুখবর মোল্লা। তাঁদের বিরুদ্ধে জাল নোট ও বেআইনি অস্ত্রের মিথ্যে মামলা সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ জানান বিধায়ক।দলীয় কর্মীদের ওপর এই ধারাবাহিক ‘হেনস্থা’ বন্ধে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন হুমায়ুন কবীর। চিঠিতে তিনি বহরমপুর পুলিশ জেলার এসপি এবং বেলডাঙা ও রেজিনগর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অপসারণের দাবি তুলেছেন। সেই সঙ্গেই ঘোষণা করেন, পুলিশি হয়রানি থেকে কর্মীদের বাঁচাতে ময়াদানি প্রচার থেকে সম্পূর্ণ সরবে তাঁর দল। প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ বা এজেইউপি-র কোনো নেতাকর্মী আর রাজপথে সভা-মিছিল করবেন না। প্রচার এখন কেবল ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সীমাবদ্ধ থাকবে। উপনির্বাচনের দোরগোড়ায় থানা চত্বর থেকে হুমায়ুনের এই রাজনৈতিক চালে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলার রাজনীতির অলিন্দে।