Virat Kohli: কিং কোহলির ব্যাটেই ভেঙে যাবে সচিনের মহাশতকের রেকর্ড, আশায় প্রাক্তনরা
নয়াদিল্লি: তিরুঅনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড স্টেডিয়াম যেন আরও একবার সাক্ষী রইল এক অবিনশ্বর রূপকথার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিকে বিদায় জানিয়েছেন আগেই, টেস্ট ক্রিকেটকেও জানিয়েছেন আলবিদা। এখন তাঁর ক্যানভাস শুধুই ওয়ানডে। দিনকয়েক আগেই নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বমঞ্চকে। সামনের বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপই হতে চলেছে তাঁর কেরিয়ারের শেষ মেগা ইভেন্ট। যে টুর্নামেন্টে দেশকে বিশ্বসেরা করে, ফাইনালে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ট্রফি উঁচিয়ে ধরার অদম্য খিদে এখনও তাঁর ভেতরে দাউদাউ করে জ্বলছে। কিন্তু তিরুঅনন্তপুরমের রবিবাসরীয় রাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর যে রূপটা দেখা গেল, তা স্রেফ কোনও ইনিংস নয়, তা ছিল রেকর্ডের পর রেকর্ড দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার এক অবিস্মরণীয় তাণ্ডব।২৮৬ রান তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল ভারত। ৮.২ ওভার বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে জয়। আর এই জয়ের আসল স্থপতি সেই একজনই। তিনি বিরাট কোহলি। মাত্র ৮৮ বলে ১৩৯ রানের এক রাজকীয় ইনিংস, যার মধ্যে হাঁকালেন ৯টি ছক্কা। ৭৪ বলে পৌঁছে গেলেন শতরানে, যা তাঁর ওয়ানডে কেরিয়ারের তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি! একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটে স্পর্শ করলেন ১৫ হাজার রানের মাইলফলক। যা তাঁর ৫৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮৬তম।এখন ক্রিকেট বিশ্বের চোখের সামনে কেবল একটাই মহাকাব্যিক প্রশ্ন? ‘মাস্টার ব্লাস্টার’ সচিন তেন্ডুলকরের ১০০টি আন্তর্জাতিক শতরানের রূপকথা কি স্পর্শ করতে পারবেন বিরাট? দূরত্ব আর মাত্র ১৪টি সেঞ্চুরির। দূরত্বটা বিশাল মনে হতে পারে, কিন্তু প্রাক্তন ভারতীয় মহাতারকাদের মতে, বিরাট বলেই এটা সম্ভব। অজিঙ্ক রাহানে যেমন চাঁচাছোলা ভাষায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিরাট যখন নিজের উপর চাপ তৈরি করে, তখনই ওর থেকে সেরাটা বেরিয়ে আসে। সচিন তেন্ডুলকার ওর আইডল, তাই ওর মাথায় যদি এখন থেকেই ১০০টি সেঞ্চুরির চিন্তা ঘোরে, তবে তাতে বিন্দুমাত্র ভুল কিছু নেই।” অন্যদিকে প্রাক্তন কিপার-ব্যাটার দিনেশ কার্তিক মুগ্ধতার সুরে বলছেন, “প্রায় দু’মাস ব্যাটে হাত না দিয়েও প্রথম দিন থেকেই এমন আত্মবিশ্বাসী আর বিধ্বংসী ব্যাটিং কেবল বিরাটই করতে পারে। ১৫৭ স্ট্রাইক রেটে ওডিআই সেঞ্চুরি করা বিস্ময়কর। ও নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছে, আর বিরাট রিদম পাওয়া মানে প্রতিপক্ষের মৃত্যুদণ্ড।”সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়, বাইশ গজে নিজের এই 'নতুন অবতার'। আগের থেকে অনেক বেশি স্বাধীন, আক্রমণাত্মক, কিন্তু সমান দায়িত্বশীল। নিজের এই পরিবর্তন নিয়ে কোহলি বলছিলেন, “কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করাটা দারুণ অনুভূতির। এখন অনেক খোলা মনে ব্যাট করছি। তবে আগ্রাসী আর বেপরোয়া ব্যাটিংয়ের ফারাকটা আমি বুঝি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে ইতিবাচক খেলব, কিন্তু এমন বে-হিসেবি শট খেলব না যাতে দল বিপদে পড়ে।” তবে এত খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও নিজের শিকড় ভুলে যাননি তিনি। “মানুষ অনেক সময় ভুলে যায় কোথা থেকে শুরু করেছিল। এত গ্ল্যামারের মাঝে নিজের মাটি ভুলে যাওয়া সহজ, কিন্তু আমি নিজের শিকড়কে কোনোদিন ভুলিনি,” আবেগঘন গলায় যোগ করেন কোহলি।ক্রিজের অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিরাটের এই ১৫ হাজার রানের মহাজাগতিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন শুভমান গিল। নিজেও ১০১ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু ম্যাচ শেষে শুভমানের মুখে শুধুই ‘বিরাট-বন্দনা’। বলছিলেন, “বিরাট ভাই এখন খেলাটা ভীষণ উপভোগ করছে। কোন পরিস্থিতিতে কী করতে হয়, ওঁর চেয়ে ভাল কেউ জানে না।”বুধবার গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন আরও বহুদূরে, গুয়াহাটি থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়ে সচিনের সেই অমলিন ‘১০০ শতরানের’ পর্বতশীর্ষে। বিরাট কি পারবেন সেই চূড়ায় ভারতের তেরঙ্গা ওড়াতে? উত্তর লুকিয়ে তাঁর সেই উগ্র খিদেই!