Hidden Stories (বাংলা)

Suvendu Adhikari Bangaon speech: প্রথমবার মতুয়াগড়ে পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী, বনগাঁর মঞ্চ থেকে 'ছারপোকা' ও 'আরশোলা'দের কড়া হুঙ্কার

বনগাঁ: রাজ্যের মসনদে পালাবদলের পর এই প্রথম মতুয়াগড়ের পুজো উদ্বোধনে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর পবিত্র দুর্গোৎসবের মঞ্চ থেকেই অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুদের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব ও আক্রমণাত্মক হুঙ্কার ছাড়লেন তিনি। বনগাঁর মাটিতে দাঁড়িয়ে সাফ জানিয়ে দিলেন, দেশের ভিতর থেকে কিছু পরজীবীর মতো শক্তি দেশকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। নাম না করে ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’র মতো কটূক্তি করে তাদের থেকে সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে সিএএ (CAA) সার্টিফিকেট প্রদান নিয়ে মতুয়াদের বড় উপহারের পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে সীমান্ত সুরক্ষার গাফিলতির অভিযোগ তুলে সোচ্চার হন তিনি।বনগাঁর প্রাক-পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ধর্ম, সংস্কৃতি এবং জাতীয় ঐক্যের মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করার ওপর জোর দেন। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। এমনকী, বিএসএফকে জমি দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা জটিলতা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার আসার পর সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশে নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হচ্ছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট ঘোষণা, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ তথা বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের সিএএ সার্টিফিকেট পেতে আর কোনো সমস্যা হবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর রাজ্য সরকার এখন নিজেই এই সার্টিফিকেট প্রদান করছে।তবে মতুয়াদের এই নাগরিকত্ব প্রাপ্তি ও উৎসবের খুশির খবরের মাঝেই এদিন তাঁর বক্তব্যে তীব্রভাবে উঠে আসে জাতীয় নিরাপত্তা ও দিল্লির রাজনীতির প্রসঙ্গ। দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং কাশ্মীরের তথাকথিত স্বাধীনতার দাবিকে হাতিয়ার করে যারা আন্দোলন করছে, তাদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বাম ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির আন্দোলনকে নিশানা করে তিনি বলেন, এই ‘ছারপোকা’ ও ‘আরশোলা’রা দেশের ভিত দুর্বল করতে চাইছে। রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, দেশের ঐক্য এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে একজোট হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করতে হবে।রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি বনগাঁর সার্বিক উন্নয়ন নিয়েও আশার বাণী শোনান মুখ্যমন্ত্রী। জানান, বনগাঁ এলাকার ৭২ হাজার মহিলা ইতিমধ্যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ৩ হাজার টাকা করে অনুদান পাচ্ছেন। নতুন কোনো যোগ্য আবেদনকারী থাকলে তা যাচাই করে আগামী দিনে তাঁদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। সীমান্ত এলাকার অর্থনৈতিক পরিকাঠামো মজবুত করতে বনগাঁয় শিল্পের বিকাশের উপরও জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। শারদোৎসবের প্রাক্কালে মতুয়াগড়ের এই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে একাধারে নাগরিকত্ব প্রদান ও দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে পারদ চড়ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Suvendu Adhikari Bangaon speech: প্রথমবার মতুয়াগড়ে পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী, বনগাঁর মঞ্চ থেকে 'ছারপোকা' ও 'আরশোলা'দের কড়া হুঙ্কার