CJP protest Delhi: শনিবারের রেশ রবিবারেও! ককরোচকে সমর্থন সোনমের, দিল্লিতেই থাকছেন মমতা
নয়াদিল্লি: শনিবারের ব্যাপক ধরপাকড় ও প্রিজন ভ্যানে তুলে ঘোরানোর নজিরবিহীন ঘটনার পরও পিছু হঠছে না 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)! প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিরুদ্ধে শনিবার সারা দিন রাজধানী জুড়ে চলা আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবারও রাজপথে নামার হুংকার দিল সিজেপি ও বাম দলগুলি। একইসঙ্গে শনিবারে আটক হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, রবিবারের এই নতুন আন্দোলনের ডাক ঘিরে ফের উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দিল্লির রাজনীতি। আর এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে মাঠে নেমেছেন লাদাখের বিশিষ্ট পরিবেশ ও সমাজসৈনিক সোনম ওয়াংচুক। অন্যদিকে, গ্রেফতারির পর মুক্তি পেয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতার ঘোষণা, শনিবার রাতে তিনি কলকাতা ফিরছেন না, আগামী সোমবার 'ইন্ডিয়া' জোটের মেগা মিছিলে যোগ দিতে রাজধানীতেই থাকছেন। শনিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির প্রতিনিধি অজিঙ্কা শিণ্ডে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রবিবারেও তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি সমানভাবে চলবে। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। শুধু মুম্বইতেই এদিন মিছিল থেকে চারশো জনকে আটক করেছে পুলিশ, যার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খানও। আর ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় মোদী সরকার ও দিল্লি পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি দেন সোনম ওয়াংচুক। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আটক হওয়া সমস্ত ছাত্রনেতা, যুবনেতা ও সাংসদদের মুক্তি না দিলে তিনিও নিজে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন। ওয়াংচুকের ভাষায়, "বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশে এখন অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে। কালকের মধ্যে সবাইকে না ছাড়লে লেহ্ বা দিল্লিতে আমি নিজে অনশন, ধরণায় বা মিছিলে বসব।" এর আগে নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছিলেন এই সমাজসৈনিক।এদিকে, শনিবার দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের পর প্রিজন ভ্যানে দুই ঘণ্টা বসিয়ে ঘোরানো নিয়ে চরম রাজনৈতিক শোরগোল পড়ে যায়। পরে ছাড়া পাওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে মমতা গর্জে ওঠেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আমাদের অপহরণ করে প্রিজন ভ্যানে দু'ঘণ্টা ধরে ঘোরানো হয়েছে। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী আমি নই। আজ রাতে আমি কলকাতায় ফিরছি না। আগামী সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রতিবাদ মিছিলে আমি এখানেই যোগ দেব।"উল্লেখ্য, শনিবারের বিক্ষোভে দিল্লি থেকে মুম্বই, সব জায়গাতেই পুলিশি অ্যাকশন ছিল চোখে পড়ার মতো। দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে গিয়ে আটক হন চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বহু শীর্ষ নেতা। তবে রবিবারেও সিজেপির আন্দোলন জারি রাখার ঘোষণা এবং সোনম ওয়াংচুক ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদের সরাসরি সমর্থন এই আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা দিল।