Hidden Stories (বাংলা)

GEN Z : পুরভোটের মুখে ‘জেন জি’ ধাঁধায় বাম-বিজেপি! তরুণ প্রজন্মকে টানতে এক অভিন্ন লড়াইয়ে গেরুয়া-লাল শিবির

কলকাতা: দিল্লিতে তরুণ প্রজন্মের অদম্য আন্দোলন আর তার অভিঘাতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা! রাজনীতির আঙিনায় জেন জি (Gen Z)-র জোর কতটা, তা যেন সম্যক উপলব্ধি করিয়ে দিয়েছে দেশের শাসকদলকে। সেই উত্তাপ এখন এসে পড়েছে বঙ্গ রাজনীতিতেও। সামনেই পুরভোট। আর তার আগে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ও অকুতোভয় এই তরুণ প্রজন্মের মন পেতে এক চরম লড়াইয়ে নেমেছে রাজ্য রাজনীতির দুই চরম বিপরীত মেরু থাকা বিজেপি এবং সিপিএম। দলীয় বয়ানে ভিন্নতা থাকলেও উভয়ের লক্ষ্য এখন একটাই, জেন জি ভোটারদের কাছে পৌঁছানো।রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম বঙ্গ সফরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। রবিবারের পর সোমবারও তাঁর সূচিতে রাজ্য রাজনীতি ও সংগঠনের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক স্থান পেয়েছে। সূত্রের খবর, সোমবার নবীন সরাসরি আলোচনায় বসছেন ‘জেন জি’ বা নতুন ভোটারদের নিয়ে। সম্প্রতি রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চায় রদবদল ঘটিয়ে ইন্দ্রনীল খাঁ-র বদলে দায়িত্বে আনা হয়েছে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে। নতুন সভাপতিকে সঙ্গে নিয়ে নীতীন নবীন যোগ দিচ্ছেন ‘যুব ভারত সংলাপ’ কর্মসূচিতে। দিল্লির আন্দোলনের শিক্ষা থেকে বিজেপি নেতৃত্ব ভালোভাবেই বুঝেছে, তরুণদের বিরোধী বা ভিন্ন মতামতকে দূরে ঠেলে দিলে চলবে না, বরং তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদানই এখন একমাত্র পথ। এর আগে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে খোলা মনে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই একই পথে হেঁটে নীতীন নবীন এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরা পুরভোটের আগেই জেন জি ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে বিশেষ ছক কষছেন।অন্যদিকে, বঙ্গ রাজনীতির অপর প্রধান মুখ সিপিএমের অন্দরে আবার দেখা গিয়েছে ঠিক উল্টো এক করুণ ছবি। এতকাল নিজেদের তরুণ নির্ভর দল বলে দাবি করলেও, আলিমুদ্দিনের সদ্য প্রকাশিত ‘এক নম্বর পার্টি চিঠি’-তে কোনও রাখঢাক না রেখে সংগঠনের ভয়াবহ তারুণ্যের সংকটের কথা কবুল করে নিয়েছে সিপিএম নেতৃত্ব। দলীয় নথির তিন নম্বর পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যে মোট পার্টি সদস্যদের মধ্যে ৩০ বছরের কম বয়সিদের হার মাত্র ৪.৫৫ শতাংশ! অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জন সিপিএম সদস্যের মধ্যে তরুণ সদস্যের সংখ্যা ৫ জনও নয়।গত কয়েক বছরে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, শতরূপ ঘোষ, দীপ্সিতা ধর কিংবা কলতান দাশগুপ্তদের মত এক ঝাঁক তরুণ মুখকে সামনে এনে প্রচার চালিয়েছিল সিপিএম। কিন্তু তা যে মূল সংগঠনের দৈন্যদশাকে ঢাকতে পারেনি, তা এখন স্পষ্ট। বয়সবিধি চালু করেও যে প্রবীণ ও তরুণের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়নি, তা স্বীকার করার পাশাপাশি তফসিলি জাতি, উপজাতি ও সংখ্যালঘু অংশের তরুণদের দলে টানতে না পারার ব্যর্থতাও চেপে রাখা হয়নি পার্টি চিঠিতে। আলিমুদ্দিনের শীর্ষ নেতাদের একাংশের মতে, আজ থেকে ২৫ বছর আগে যোগ্য ও মেধাবী তরুণদের বাদবিচারের নামে বাদ দেওয়ার যে রোগ শুরু হয়েছিল, তারই খেসারত দিতে হচ্ছে আজ।সব মিলিয়ে, আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জেন জি-র নাগাল পাওয়াটাই এখন বিজেপি ও সিপিএম, দুই শিবিরের কাছেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একপক্ষ নীতীন নবীনের নেতৃত্বে কৌশল বদলে তরুণের দরবারে পৌঁছতে চাইছে, তো অন্যপক্ষ নিজেদের ক্ষয়ে যাওয়া ভিত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।

GEN Z : পুরভোটের মুখে ‘জেন জি’ ধাঁধায় বাম-বিজেপি! তরুণ প্রজন্মকে টানতে এক অভিন্ন লড়াইয়ে গেরুয়া-লাল শিবির