Dilip Ghosh: SRFTI কাণ্ডে ABVP যোগ খারিজ, কুণালকে ভাষণ কমানোর পরামর্শ দিলীপের!
কলকাতা: দক্ষিণ কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) রবিবারের তুমুল উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) তথা আরএসএস (RSS)-এর কোনো ভূমিকা নেই। এমনই দাবি তুলে ঘটনার সম্পূর্ণ দায় তথাকথিত ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ ও ‘দেশবিরোধী’ শক্তির ওপর চাপালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রবিবার দুপুর থেকে টানা ৭-৮ ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এসআরএফটিআই চত্বর। আরএসএস-এর শাখা সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতি’র একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এসএফআই (SFI) ও আয়োজকদের মধ্যে তীব্র মারামারি, ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি-ব্যানার ছেঁড়া এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বনাম ‘আজাদি’ স্লোগান তোলার মতো ঘটনা ঘটে। এই হিংসার পর সোমবার সকাল থেকেই চত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পঞ্চসায়র থানায় ইতিমধ্যেই ৪টি পৃথক এফআইআর রুজু হয়েছে, যার মধ্যে একটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত।এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের বর্ষীয়ান মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এসআরএফটিআই-এর ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি স্পষ্ট বলেন, “বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি সক্রিয় ছিল, যারা প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় টিকে ছিল। কিন্তু দেশের সংস্কৃতি, পরম্পরা ও মহাপুরুষদের অপমান করার এই মনোভাব আজ আর মানুষ মেনে নেবে না।” নকশাল আমলের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় মহাপুরুষদের মূর্তিতে কালি লাগান হতো, আজ তাদেরই কিছু উত্তরসূরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর কড়া হুঁশিয়ারি, যারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে তারা স্রেফ সমাজবিরোধী এবং এদের বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না।শুধু এসআরএফটিআই বিতর্কই নয়, রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত ইস্যু নিয়েও মুখ খোলেন মন্ত্রী। বেলেঘাটায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার আক্রান্ত হওয়া তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দিলীপবাবু বলেন, “কুণাল ঘোষ জেনেবুঝে মানুষকে উস্কানি দেন যাতে ওঁর ওপর হামলা হয়। খবরে থাকার জন্য এসব ওঁরই পূর্বপরিকল্পিত ছক।”অন্যদিকে, বোলপুরে বিজেপির বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে প্রকাশ্য সন্ধ্যায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের ঘটনাকে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ বলে স্বীকার করে নেন তিনি। মন্ত্রীর আশ্বাস, স্বরাষ্ট্র দফতর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীদের শেষ দেখে ছাড়া হবে। একই সঙ্গে হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা ভণ্ডামি বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো ঘটনায় বিজেপির ওপর দায় ঠেলা এখন সহজ ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা ৫০ বছর ধরে বাংলায় হিংসা চালিয়ে এসেছে, তাদের চিহ্নিত করতে কিছুটা সময় লাগবে।”প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকেও তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, মমতার ওপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে গিয়েছে, তিনি এখন খড়কুটো আঁকড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন এবং মাসে মাসে ভরসার জায়গা বদলাচ্ছেন। পাশাপাশি, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা নীতিন নবীনের বঙ্গ সফর ও দলীয় বৈঠক নিয়ে তিনি জানান, বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার দলেও সাংগঠনিক পরিবর্তন আসবে এবং রাজ্য বিজেপি সম্পূর্ণ নতুন নির্দেশিকা মেনে এগোবে।