El Nino: সেপ্টেম্বরেই পারদ নামল ২১ ডিগ্রিতে, দূষণ রুখতে ৩ মাস আগেই তৎপর দিল্লি
নয়াদিল্লি: তবে কি সেপ্টেম্বর শেষ হতে না হতেই এল নিনোর প্রভাব পড়তে শুরু করে দিল ভারতের আবহাওয়া চক্রে? নাকি ২০২৫-এর শীত এবার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কড়া নাড়ছে রাজধানীতে? রবিবারের ভোর হতেই এই প্রশ্নে তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনৈতিক অলিন্দ থেকে নেটপাড়া জুড়ে। ২৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে সেপ্টেম্বরের শেষলগ্নে দিল্লির তাপমাত্রা নেমে গেল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ২০০১ সালের পর এই মাসে সর্বনিম্ন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ফ্যান বা এসির প্রয়োজনীয়তা এক ধাক্কায় কমে যাওয়ায় দিল্লির বাসিন্দাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি এবার আগাম শীতের কামড় শুরু হতে চলেছে?তবে আবহাওয়াবিদেরা এল নিনোর থিওরি বা শীতের আগাম আগমনের তত্ত্বকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই পারদ পতন আসলে কোনও ঋতু পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এক দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপের প্রভাব। মৌসুমী বায়ুর প্রত্যাবর্তনের সময়ে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও বায়ুর সহায়তায় উত্তর ভারত জুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছে। দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ওড়িশায় দীর্ঘস্থায়ী মেঘলা আকাশ ও বৃষ্টির কারণেই দিনের বেলা সূর্যের উত্তাপ পৌঁছায়নি এবং রাতের তাপমাত্রা একধাক্কায় অনেকটা নেমে গিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের আভাস, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবরের পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হতেই ফের বাড়বে দিনের তাপমাত্রা। অর্থাৎ, সেপ্টেম্বরের এই আচমকা ঠান্ডা শুধুই ক্ষণস্থায়ী এক ব্যতিক্রম।কিন্তু আবহাওয়া যা-ই বলুক না কেন, দিল্লির শীত মানেই যে দূষণের বিষবাষ্পের চরম দাপট, তা ভালভাবেই বোঝে বিজেপি প্রশাসন। আর তাই প্রতি বছরের মতো শেষ মুহূর্তে না জেগে, এবার শীত আসার তিন মাস আগেই দিল্লির বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল দিল্লি সরকার।আসন্ন ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গোটা রাজধানীতে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দূষণ কমাতে ১ নভেম্বর থেকে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পার্কিং ফি এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। ধুলোবালি ও বায়ুদূষণ রুখতে নির্দিষ্ট সপ্তাহের জন্য শহর জুড়ে যাবতীয় নির্মাণকাজ এবং পুরানো ইমারত ভাঙার কাজ (Construction and Demolition) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।যানজট ও গাড়ির ধোঁয়া কমাতে আনা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি। পাশাপাশি সরকারি দফতর এবং দিল্লি পুরনিগমের (MCD) কাজের সময়ে আনা হয়েছে বদল। পুরনিগমের অফিস খুলবে সকাল ৮:৩০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত, অন্যদিকে রাজ্য সরকারি দপ্তরগুলি চলবে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা পর্যন্ত। ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গিয়েছে, দিল্লির নিজস্ব যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজের ধূলিকণার পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় খড় পোড়ানোর (Stubble Burning) ধোঁয়াই শীতকালে শহরটিকে কার্যত এক ‘গ্যাস চেম্বারে’ পরিণত করে। অতীতে ‘অড-ইভেন’ বা জোড়-বিজোড় গাড়ি চলাচলের মতো নীতি নিয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই খামতি মোতেই এবার বর্ষা বিদায়ের আবহেই মাস্টারপ্লাান সাজাল দিল্লি।সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাত সাময়িক স্বস্তি দিলেও, আগামী দিনে পরিষ্কার আকাশে গরমের ফের ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শীত আসার আগেই প্রশাসনিকভাবে যে ‘রেড এলার্ট’ জারি হয়ে গেল, তা স্পষ্ট করে দিল, বাতাসের বিষ রুখতে এবার বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ রাজধানী শহর।